জোনায়েদ সাকির কাছে তার কর্মীর ১৭ দফা চাওয়া পাওয়ার প্রস্তাব, বদলে যাবে বাঞ্ছারামপুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬( বাঞ্ছারামপুর) আসনে, বিএনপি সমর্থিত ও গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী
জননেতা জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ( জোনায়েদ সাকি) ভাইয়ের কাছে উন্নত ও নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর গড়তে নাগরিক প্রস্তাবনা।
১/ শিক্ষা
ক. বাঞ্ছারাপুরের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তরিত করতে প্রত্যাকটা ইউনিয়নে একটি করে ট্যাকনিকেল সস্কুল প্রতিষ্ঠা।
খ.আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজন, তাই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রয়োজন।
গ.নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে, একটি মহিলা কলেজ প্রয়োজন।
ঘ.বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দলিয় প্রভাব মুক্ত রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তুলনামূলক দূর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে তার উন্নয়ন সাধনা করা।
ঙ. যেমন, কৃষক,মজুর,জেলে সহ সকল পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর সন্তানদের নূন্যতম উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
চ. নারী শিক্ষার বিষেষ গুরুত্ব প্রদান।
ছ.দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সহায়তা করার জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রকল্যান তহবিল গঠণ করা যা দলিয় প্রভাব মুক্ত থাকবে।
জ.বিষেষ জনগোষ্ঠীর ( বেধে সম্প্রদায়) শিক্ষা নিশ্চিত করা।
২/ স্বাস্থ্য
ক.বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ৫০ শয্যা থেকে ১০০তে উন্নিত করে আধুনিকায়ন ও পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে দারিদ্র্য মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।
খ.উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, দূর্নীতি, দায়িত্ব অবহেলা
গ. ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে বিষেষ সুবিদা গ্রহন করে তাদের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় টেষ্ট দেওয়া।
ঘ.বিষেষ ঔষধ কোম্পানি থেকে কমিশন গ্রহন করে তাদের কোম্পানির ঔষধ লেখা এবং ঔষধ কোম্পানির লোকদের সাথে সময় দিতে গিয়ে চিকিৎসার বিঘ্ন ঘটে।
ঙ.প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যথাযত তদারকির মাধ্যেমে খেটে খাওয়া নিম্ম আয়ের মানুষদের প্রাথমি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।
চ. নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করা।
ছ. বিষেষ জনগোষ্ঠীর ( বেধে সম্প্রদায়) স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।
৩/ বাসস্থান
ক. হত দরিদ্র অনেক পরিবারের বাসস্থান নেই তাদের বাস্থানের ব্যবস্থা করা।
খ.শৃন্যমূল বৃদ্ধ ,নারী, শিশুদের বাসস্থানের ব্যবস্তা করা।
গ.আমাদের উপজেলার দক্ষিণ পাশে ( ফায়ারসার্ভিস অফিসের দক্ষিন পাশে) ভাসমান জনগোষ্ঠী বেধে সম্প্রদায়ের বাস, তাদের স্থায়ী বসবাসের বন্দোবস্ত করা।
৪/ যোগাযোগ
ক. মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ।
খ.প্রত্যকটা ইউনিয়নের মেইনরোডগুলো প্রসস্ত করা
গ.অনেক গ্রামের ভিতরের রাস্তাগুলো এখনো পিচডালাই হয়নি এগুলোকে পিচডালা করা।
ঘ.একটি ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যোগাযোগের জন্য বিকল্প রাস্তা করা।
ঙ.যে রাস্তাগুলোতে পানি জমে যায় সেখানে ড্রেনেজ ব্যব্তা করা।
৫/ কর্মসংস্থান বা বেকার দূরীকরণ
ক.উপজেলার প্রত্যকটা নাগরিক যেন তাদের যোগ্যতা অনুযায়ি কাজ পায় সে ব্যবস্তা করা।
খ. যুবকদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলায় যুব উন্নায়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করা।
গ.বিদেশ গামী যুবকদের সহজ সর্তে ঋণ নিশ্চিত করা।
ঘ.প্রবাসি কল্যান ব্যাংকের হয়রানি বন্ধ করা।
ঙ. বিদেশ গামীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি রোধ করা।
চ.আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য যুব উন্নায়নের ঋণ প্রদানে হয়রানি রোধ করা।
ছ.উদ্যেক্তা তৈরি করার জন্য যুব সমাজকে উদ্ভুদ্ধ করা।
জ.অনলাইন মার্কটিং ও ফিনেন্সারদের কাজের জন্য সহায়তা করা।
৬/ মাদক নির্মুল
ক.মাদক এখন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ক্যন্সার হিসাবে রূপ ধারণ করেছে, তাই মাদক নির্মুলে মাদকোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
খ. মাদক নির্মুলের লক্ষ্যে মাদকের সাথে জরিত মাদক কারবারিদেরকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
গ.দলিয় পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি যারা মাদক কারবারিদের সেল্টার দেয় তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ঘ.মাদক গ্রহনকারিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঙ. যুব ও ছাত্র সমাজকে মাদক থেকে বিরত রাখার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৭/ ক্রীড়া ও বিনোদন
ক. বাঞ্ছারামপুর উপজেলা একটি স্টোডিয়াম নির্মাণ করতে হবে।
খ.প্রত্যেকটা করা ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ করতে হবে।
গ. আমাদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই, একটি বিনোদন পার্ক করতে হবে।
ঙ.বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উত্তর ও পশ্চিমে মেঘনা নদীর তীর দিয়ে মেরিন ড্রাইভ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
চ. শিশুদের জন্য একটি শিশুপার্ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
৮/ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা
ক.বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সকল ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষা করতে হবে।
খ. ঐতিহাসিক স্থাপনা রূপসদী,বাঞ্ছারামপুর সদর,উজানচরের জমিদার বাড়ি গুলোকে সরকারি ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
গ.বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের পূর্ব পাশে অবস্থিত আমাদের ঐতিহ্য তাঁতশিল্পের স্থাপনা তাঁত বোর্ড কে সংরক্ষণ করতে হবে।
ঘ.আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য তাঁতশিল্পেকে এখনো ধরে রেখেছে তাদেরকে সহযোগিতা করা
ঙ. বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও একটি শিল্পকলা একাডেমি করতে হবে।
চ. বাংলার প্রাচীন বাউল সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৯/ নিরাপত্তা
ক. জাতি, ধর্ম,বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
খ. প্রকৃত ইসলামের প্রচারক মাজার,দরবার, খানকাহ এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
গ.চুরি,ডাকাতি, ছিনতাই তা কঠোর ভাবে দমন করতে হবে।
ঘ. উপজেলার ফতেপুর পাড়াতুলির পূর্ব পাশে ডাকাতি বন্ধে প্রশাসনকে কঠুর হতে হবে।
ঙ. বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
চ.বাঞ্ছারামপুর নদী বেষ্টিত এলাকা তাই জল পথে জলদস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে নদীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১০/ অনিয়ম, দূর্নীতি
ক.উপজেলার সকল সরকারি অফিসগুলো যেন অনিয়ম দূর্নীতির আতু ঘর। প্রত্যকটা সরকারি অফিগুলোকে দূর্নীতি মুক্ত করতে হবে।
খ.উপজেলার সকল সরকারি অফিগুলোকে তাদের সকল সেবা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
গ. সরকারি অফিসগুলোতে জনগণের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
ঘ. বিদেশগামীদের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে পুলিশ বেরিফিকেশন, পুলিশ প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের মিলে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
ঙ. দলিয় প্রভাব খাটিয়ে মামলা বাণিজয বন্ধ করতে হবে।
১১/ কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চত
ক. কৃষকদের ন্যাজ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
খ. উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকগন সরকারি সহযোগিতা পায়না, সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
গ. কৃষি অফিসারগণ প্রান্তিক কৃষকদের কাছে যেয়ে তাদের প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ দেয়না বরং যারা এলাকার প্রভাবশালি লোক বা দায়িত্ব আছে শুধু তাদের আত্মীয়রাই সেই সুযোগ পেয়ে থাকে।
ঘ.কৃষকদের জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
ঙ. শ্রমিকদের ন্যাজ্য মুজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
চ. শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করে করতে হবে।
ছ. শ্রমিকরাও যে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
জ. বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের উপর নির্যাতন করা হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।
১২/ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি
ক. সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
খ. দলিয় বা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন যায়গায় চাঁদাবাজি করা হয় তা বন্ধ করতে হবে।
গ. পৌরসভার নামে সদরের বিভিন্ন মোড়ে গাড়ি থেকে টাকা উঠানো হয় তা বন্ধ করতে হবে।
ঘ.স্থানীয় ভাবে প্রভাব খাঠিয়ে একটি মহল গ্যাং তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ও স্থাপনা থেকে চাঁদা তুলা হয় যা আগে দেখা যেত নতুন করে এমন যাতে না হয় খেয়াল রাখতে হবে।
চ.প্রত্যেকটা অটু বা সিএনজি স্টেশনে কেউ যাতে দখল করে চাঁদাবাজি করতে না পারে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।
১৩/ নদী, খাল ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা
ক. আমাদের উপজেলাটি নদী বেষ্টিত তাই বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন যায়গায় ভাঙ্গন দেখা দেয়,নদী ভাঙ্গনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
খ. নদী হতে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তলন বন্ধ করতে হবে।
গ. নদীর তীরে পরিকল্পিত ভাবে বাধ নির্মান করতে হবে।
ঘ. আমাদের উপজেলার অনেক খাল বর্তমানে মৃতপ্রায় তাই খাল গুলোকে খনন করতে হবে।
ঙ. অনেক খাল বর্জ দিয়ে ভরে ফেলা হয়েছে সে গুলোকে বর্জ মুক্ত করে আগের মতো যেন প্রবাহিত হয় সে ব্যাবস্তা করতে হবে।
চ. বর্জ ও রাসায়নিক ব্যবহারের কারনে দেশীয় মাছ কমে যাচ্ছে তাই প্রকৃতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ছ.কৃষি ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।
জ. প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রাখতে পরিকল্পিত ভাবে রাস্তার পাশে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
১৪/ আপনি যেহেতু বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একজন জনপ্রতিনিধি তাই বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় অন্তত প্রতি সপ্তাহে ১ দিন করে সময় দিবেন সাধারণ মানুষদের সুখ-দুঃখ শোনার জন্য।
১৫/ আপনার দলের কেউ বা আত্মীয় পরিচয়ে কোনরকম অন্যায় কাজে লিপ্ত না হয়। যদি অন্যায় করে তাহলে তাকে অন্যায়কারি হিসাবে চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
১৬/ সাধারণ মানুষ যেন আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সকল খবর রাখতে আপনি একটি বাঞ্ছারামপুর ইনফরমেশন সেল গঠন করবেন।
১৭/ বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সকল সাধারণ নাগরিকগণ যাতে তাতক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারে সে জন্য একটি হটলাইন চালু করতে হবে।
সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আবু নাঈম ( নাঈম আমিন)
কর্মী, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশন, ১০ নং রপসদী ইউনিয়ন শাখা, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।



