বাঞ্ছারামপুর

টিনের ক্লাসরুমটি গরমে শিশুদের জন্য হয়ে ওঠে বৈদ্যুতিক চুল্লি, ঘামে ভেসে যায় শিক্ষা 

টিনের ক্লাসরুমটি গরমে শিশুদের জন্য হয়ে ওঠে বৈদ্যুতিক চুল্লি, ঘামে ভেসে যায় শিক্ষা

বাঞ্ছারামপুরে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রয়েছে বেহাল দশা। দীর্ঘদিন অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় রোদ-বৃষ্টিকে মাথায় নিয়েই ক্লাস করতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। অনেক সময় তৈরি হয় জীবনের ঝুঁকি। তবে এমন দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।

এরমধ্যে অন্যতম হলো উপজেলার পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (উত্তর)। এখানে শিক্ষার ন্যূনতম কোনো পরিবেশ নেই। নানান প্রতিকূলতার মধ্যে কোনো রকমে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ টিনের ঘরের হওয়ায় গরমে তা চুল্লির মতো হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইট কিংবা ফ্যানের ব্যবস্থা।

বেশ কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থী জানান, বাধ্য হয়েই তাদের এমন ক্লাসরুমে ক্লাস করতে হয়। মনোযোগী হতে পারছেন না তারা। গরম সহ্য করতে না পেরে অনেক শিশু হয়ে পড়েন অচেতন। ঘেমে ঘেমে নষ্ট হয় বিদ্যালয়ের পোশাক, যা আর পরদিন পরিধান করার মতো অবস্থা থাকে না।

শিক্ষরকরা জানান তাদের দুর্ভোগের কথা। পড়া তো দূরের কথা সেখানে টিকে থাকাই দায়। এতে করে সিলেবাস শেষ হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসহনীয় গরমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বসে থাকতে পারছে না। অনেকেই বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টির কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। একটি আধুনিক ও পাকা ভবন হলে মিলবে সমাধান। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অতিদ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির সহযোগিতাও কামনা করছেন অভিভাবকরা।

ইতিমধ্যে উপজেলার এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মাইনুদ্দিন এ সংক্রান্ত আবেদন করেছে বলেও জানা গেছে।

Related Articles

Back to top button