সর্বশেষ:
Home / বাঞ্ছারামপুর / বাঞ্ছারামপুরকে টার্গেট করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিকাশ প্রতারকচক্র, কী বলছেন ওসি?

বাঞ্ছারামপুরকে টার্গেট করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিকাশ প্রতারকচক্র, কী বলছেন ওসি?

রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে দেশের প্রথম সারিতে অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে উপজেলায় আসে কোটি কোটি টাকা। মোবাইল ব্যাংকিংয়েও সমান তালে আসে টাকা। আর এ কারণে বিকাশ প্রতারক চক্রের প্রধান টার্গেট এখন এই উপজেলার মানুষ। প্রতিদিনই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। তবে এর কোনো সমাধানও দিতে পারছে না পুলিশ।

প্রতারণার সঙ্গে বিকাশে কর্মরত অনেকে জড়িত বলেও জানা যায়। হেড অফিসের কিছু লোকের সাথে যোগসাজশে এসব করেন তারা।

সম্প্রতি ফতেহপুরের এক তরুণীর কাছ থেকে কৌশলে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বিকাশ প্রতারক চক্র। পরে এ নিয়ে থানায় জিডি করেন তরুণী। মাস পার হলেও কোনো হদিসই মেলিনি টাকার, অধরাই রয়ে গেছে প্রতারকচক্র। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারক চক্রের নম্বর শণাক্ত করে দেখা যায় অবস্থান দেখাচ্ছে কখনো নারায়ণগঞ্জ, আবার কখনো রংপুর। সিমটি রেজিস্ট্রেশন করা ময়মনসিংহের এক নারীর নামে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারণার শিকার ঐ তরুণী বলেন, টাকা উদ্ধারে কোনো প্রচেষ্টাই দেখিনি পুলিশের। এতোদিন হয়ে গেল অন্তত তাদের প্রক্রিয়া চলমান বলে আশা করেছিলাম, সেটাও হয়নি। আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হলে, পুলিশ যদি তা আমলে না নেয় আমরা যাবোটা কার কাছে? আমার মতো এমন অনেকে প্রতিদিন বিভিন্ন ভাবে বিকাশ প্রতারকচক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ব্যবস্থা নিলে এটা অনেকটা কমে আসতো।

একই ভাবে বিষ্ণুরামপুর গ্রামের একটি পরিবারের কাছ থেকেও হাতিয়ে নেয়া হয় বেশ কিছু টাকা। সেই টাকা ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে পরিবারটি।

এছাড়াও সাংবাদিক পরিচয়ে কয়েকটি প্রতারকচক্র একাধিক ব্যক্তিকে ফোন দেয়ার তথ্যও আসে সময়ের বাঞ্ছারামপুরের কাছে।

ভেলানগর গ্রামেও ঘটে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক তরুণীর স্বামী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মারা গেছে বলে টাকা চাওয়া হয় পরিবারের কাছে। কিছুক্ষণ পরেই পরিবার জানতে পারে কিছুই হয়নি, বরং প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছিলেন তারা।

এভাবে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলছে এই উপজেলাতে। প্রতিদিনই টাকা খোয়াচ্ছেন সাধারণ মানুষজন। কিন্তু পুলিশের নেই তেমন কোনো তদারকি। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অনেকে।

বিষয়টি নিয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময়ের বাঞ্ছারামপুর। প্রতারণার ঘটনা গুলো তুলে ধরে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ জানতে চাইলে ওসি বলেন, সবার আগে আমাদের সবার সতর্ক হওয়া উচিত। নিজেদের ভুলে অনেকে প্রতারণার শিকার হন।

তবে যারা আইনি সহায়তা চায় তাদের জন্য পুলিশ কী করছে বা করবে তা জানতে চাইলে ওসি বলেন, প্রতারক চক্রের অবস্থান সুনির্দিষ্ট ভাবে পাওয়া যায় না। একাধিক সিম ব্যবহার করে একেক জায়গায় অবস্থান করে। সিমগুলোও ভুয়া ব্যক্তির নামে থাকে। তাদের ধরার জন্য চেষ্টা করে সিআইডি ও সাইবার টিম। যদি প্রতারণার মামলা হয় তাহলেই টাকা উদ্ধার অনেক সময় সম্ভব হয়। কিন্তু অনেকে না বুঝে জিডি করে, প্রতারণার শিকার হলে প্রতারণার মামলা করতে হয়।

Check Also

জবাই করা খাসি মাথায় নিয়ে ঘুরছিলেন ইমামনগরের সজিব, আটক করল জনতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি গ্রামে জবাই করা ছাগল মাথায় নিয়ে ঘোরাঘুরি করার সময় এক যুবককে …