বিএনপির দুর্দিনে বাঞ্ছারামপুরে যে কজন বুক চিতিয়ে দলকে আগলে রেখেছেন তার মধ্যে অন্যতম ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ভেলানগরের ফারুক আহমেদ। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের মধ্যমনি হিসেবে দেখা গেছে তাকে। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে কখনো মনোবল আবার কখনো বা অর্থ দিয়ে আগলে রেখেছিলেন সেই ভয়ানক দিনগুলোতে। দলীয় কোনো পদ-পদবীতে না থেকেও এভাবেও যে দলকে ভালোবাসা যায় তা রাজনীতির মাঠে এক দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনেকেরই এখন চাওয়া সেই ফারুকই হোক আগামীর ইউপি চেয়ারম্যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ফারুক আহমেদের রয়েছে শক্ত অবস্থান। এর কারণ হিসেবে দেখা যায়, ফারুকের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে রয়েছে সমান জনপ্রিয়তা। কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি কিংবা কোনো অনিয়মে না জড়ানোয় ক্লিন ইমেজ সবচাইতে বড় খুঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে তার। ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে তার পরিচিতি ও একনিষ্ঠ সমর্থক থাকার সুবিধাও পাবেন ফারুক। ফতেহপুর, দড়িভেলানগর, পাড়াতলি, শরীফপুর রয়েছে এই প্রার্থীর সমান জনপ্রিয়তা।
দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তৈরি হয়েছে অসংখ্য শুভাকাঙ্খী। তাদের আবদারের কারণেই নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফারুক। আংশিক ভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন তার সমর্থকরা। সমর্থনও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। গুঞ্জন রয়েছে এই প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে ভেলানগরের ঐতিহাসিক এক বিজয় হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত যোদ্ধা ফারুক। পরিচিত এক মুখ। বিএনপির তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতার সাথে তার রয়েছে সমান সম্পর্ক। ফেইস ভ্যালুর একটা সুবিধা তিনি পাবেন। ব্যক্তি সম্পর্কের জেরে অনেক নেতাকর্মী তাকে সমর্থন দিতে পারেন। এছাড়াও মানবিক কাজ ও বিপদে মানুষের পাশে থাকার সুনামও রয়েছে তার। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়ারও কোনো ইতিহাস নেই। নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে। সব মিলিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন তিনি।
স্থানীয়দেরও চাওয়া তিনি থাকুক নির্বাচনী মাঠে। দলের খারাপ সময়ের কাজের কথাও তুলে ধরছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলআমিন মাস্টার এ বিষয়ে বলেন, যখন বিএনপির নাম নিতে সবার বুক কাঁপতো, ফারুক তখন পোস্টার-ব্যানার করে দলের প্রচারণা করেছেন। কোনো রক্তচক্ষু তাকে দমাতে পারেনি, নির্যাতন আর বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন, তবুও দমে যাননি। ফারুকের অদম্য অবস্থান সবার জন্য দৃষ্টান্ত।
শাহাদাত নামে একজন বলেন, ফারুক ভাই সবার পরিচিত মুখ! দীর্ঘদিন তিনি নিজের গ্রামে ঢুকতে পারেননি, হামলার শিকার হয়েছেন। অনেকে আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করলেও ফারুক ছিলেন অটল। সব নেতাকর্মীর খোঁজ রেখে দিয়েছেন মিটিং মিছিলের নেতৃত্ব। কথা রাখার মতো এমন ব্যক্তিই জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য।
নির্বাচনের বিষয় নিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, আমার নিজের সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। আকাশে চাঁদ উঠলে সর্ব লোকেই দেখে। আমার মূল্যায়ন করবে দল আর জনগণ। তাদের ভালোবাসাই আমার সম্বল। কখনো কোনো স্বার্থ দেখিনি, নিজেকে বিলীন করে দিয়েছি। সবাই তা দেখেছে। দেশ আর সমাজের জন্য এবার কিছু করে যেতে চাই, আশা করি সেই সুযোগ আমার হবে।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর