২০২৫-এর পরীক্ষার্থীকে ২০২৬-এর প্রশ্ন, বাঞ্ছারামপুরে ভুল প্রশ্ন জানালেও শুনেনি শিক্ষকরা

বাঞ্ছারামপুরে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা; কেন্দ্র সচিবসহ ৩ শিক্ষক অব্যাহতি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জানা গেছে, উপজেলার উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বাঞ্ছারামপুর সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত ছাত্রী। নিয়ম অনুযায়ী তার ২০২৫ সালের সিলেবাসে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু পরীক্ষার সময় তাকে ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে জানায়, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরই সে বুঝতে পারে এটি তার নির্ধারিত সিলেবাসের নয়।
সে বিষয়টি কক্ষ পর্যবেক্ষকদের বারবার জানালেও দায়িত্বরত শিক্ষক সিহাব উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম তার কথা গুরুত্ব দেননি। বরং তাকে ওই ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দাখিল করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সূত্রধর এবং কক্ষ পর্যবেক্ষক সিহাব উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কেন আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব তপন চন্দ্র সূত্রধর জানান, কক্ষ পর্যবেক্ষকদের গাফিলতির কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর খাতা বিশেষভাবে মূল্যায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক সিহাব উদ্দিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল বলছে, একজন শিক্ষার্থীর সারা বছরের পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন দায়িত্বহীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন শিক্ষাবোর্ড ওই শিক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়নে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।


