রাইকা ওয়ালীকে সমর্থন দিয়ে এনসিপির প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ালেন মাইনুদ্দিন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীতা নিয়ে বাঞ্ছারামপুরে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছিল গুঞ্জন। সাবেক সংসদ সদস্য এটিএম ওয়ালী আশরাফের কন্যা রাইকা ওয়ালী খানের প্রার্থীতা নিয়ে চলছিল সংশয়। এবার সেই গুঞ্জনের অবসান হলো। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন এমপি প্রার্থী হিসেবে রাইকা ওয়ালীকে সমর্থন দিয়েছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে এক ফেসবুক লাইভে এসে রাইকা ওয়ালীকে তার সমর্থনের কথা জানান দেন মাইনুদ্দিন।
অবশ্য এর আগে এনসিপির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন মাইনুদ্দিন। তবে এবার রাইকা ওয়ালীকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থীতা থেকে অনেকটাই সরে দাঁড়ালেন তিনি।
ফেসবুক লাইভে মাইনুদ্দিন বলেন, অনেকেই রাইকা ওয়ালী আপুর কথা জানতে চেয়েছেন প্রার্থীতার বিষয়ে। ওনাকে এনসিপির প্রার্থীতা করা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওনি বেশ ভালো মানসিকতার লোক, ওনার বাবার মতোই। রাইকা ওয়ালী এনসিপিকে অনেক পছন্দ করেন, আমরা চেয়েছিলাম একজন যোগ্য লোক এনসিপির দায়িত্ব নিক, সে দিক থেকে আমরা ওনাকে পেয়েছি। সত্যি বলতে অসাধারণ এক মানুষ তিনি। আপনার সবাই আপুর পাশে থেকে সমর্থন দিবেন।
এনসিপির প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে রাইকা ওয়ালী খান বলেন, ‘ আমি এনসিপির হয়ে নির্বাচন করছি এটি শতভাগ নিশ্চিত। নতুন বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির ধারা নিয়ে আসতে চাই। জনতার কল্যাণে দলের হয়ে নিজেকে নিয়োজিত করবো। শীঘ্রই আমার বাবার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আমার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিবো।
উল্লেখ্য, বাঞ্ছারামপুরে জননন্দিত নেতা ছিলেন এটিএম ওয়ালী আশরাফ। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে এবং বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ওনার অবদান স্মরণীয়। স্বাধীনতা পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন সরকারের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ফলশ্রুতিতে তার প্রকাশিত পত্রিকা প্রকাশ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়। এমনকি তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনও বাধার সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে তিনি দেশে ফেরেন এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হন।
১৯৯৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তারই কন্যা রাইকা ওয়ালী খান।


