বাঞ্ছারামপুরে তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে গণধোলাই, ভিডিও করায় সাংবাদিককে হুমকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে সিয়াম (২৫) নামে এক যুবককে আটক করার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করায় দৈনিক দেশের কণ্ঠের সাংবাদিক আরজু হোসেনকে হুমকি দেয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা সময় দিয়ে ভিডিওটি সরিয়ে নেয়ার হুমকি দেন এমডি হৃদয় নামের একটি আইডি থেকে। সেখানে ভিডিও ডিলেট না করলে সাংবাদিককে দেখে নেয়ার হুমকি দিতে শোনা যায়।
এ ঘটনার পর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলার সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়া কাম্য হতে পারে না। সব কিছুরই প্রসেস আছে। সাংবাদিকরা যা ঘটে তা তুলে ধরেন। সাংবাদিক আরজু ও তা করেছিলেন। এমন হুমকি গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ করার পরিবেশকে বিনষ্ট করে। দেশের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদপত্রকে বিপাকে ফেলার এমন পায়তারা সফল হতে দেয়া যায় না। আজ একজনকে কাল আরেকজনকে হুমকি দিতে থাকলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে রুখে দিবে।
এমন হুমকির ঘটনায় উপজেলার যুব সমাজও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা হুমকি দাতাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে সিয়াম বাঞ্ছারামপুর উপজেলার এক তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি তরুণী তার ভাইকে জানানোর পরপরই পরদিন শনিবার সকালে মেয়েটির ভাই সিয়ামকে ফোনে দেখা করতে বলেন। কিন্তু সিয়াম ফোনে মেয়েটির ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং দেখা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সিয়াম নিজেকে এলাকার প্রভাবশালী নেতা দাবি করে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিবাহিত সত্ত্বেও তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় সিয়াম অনুশোচনা না করে উল্টো হুমকি দিতে থাকেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সিয়াম স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মাদক চোরাচালান ও সেবনের সঙ্গেও জড়িত। এই কারণে এলাকায় তার বিরুদ্ধে জনমানসে ক্ষোভ তৈরি হয়।


