বাঞ্ছারামপুর

মেঘনায় কচুরিপানার ‘বিশাল প্রাচীর’: ১৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ২ ঘণ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মেঘনা নদীতে হঠাৎ কচুরিপানার ব্যাপক জট সৃষ্টি হওয়ায় নৌচলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিশনন্দী ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। স্থানীয়দের জানান, ভোরের পর থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে কচুরিপানা ভেসে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীতে বিশাল জট সৃষ্টি করে। সকাল ৯টার মধ্যেই এ জট ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়িকান্দি সংলগ্ন মেঘনা নদীর প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘন কচুরিপানার স্তূপ জমেছে। এতটাই ঘন যে, অনেককে এর ওপর দিয়ে হাঁটতেও দেখা গেছে। কেউ কেউ মাঝনদীতে গিয়ে সেলফি তুলছেন।
এই পরিস্থিতিতে নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যেখানে সাধারণত ১০-১৫ মিনিটে নদী পার হওয়া যায়, সেখানে এখন সময় লাগছে এক থেকে দুই ঘণ্টা। ফেরি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা—সব ধরনের নৌযানই পড়েছে একই সমস্যায়।
স্থানীয় মাঝিরা জানান, “কচুরিপানার কারণে আমরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছি। স্বল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।”
এ রুট ব্যবহারকারী যাত্রীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন যাতায়াতে কচুরিপানা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ঘণ্টাখানেক সময় লাগে।”
বিশনন্দী ফেরিঘাটটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, কসবা এবং কুমিল্লার তিতাস, হোমনা, মেঘনা, মুরাদনগরসহ তিন জেলার অন্তত ১০ উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে কচুরিপানা নৌচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
স্থানীয়রা দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, না হলে এ দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Related Articles

Back to top button