বাঞ্ছারামপুর

বন্ধু ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমধর্মী নামাজ ক্যাম্পেইন, ফরদাবাদে ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ আদায়কারীদের সংবর্ধনা

পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদে ব্যতিক্রমধর্মী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বন্ধু ফাউন্ডেশন। ড. রওশন আলম কলেজ সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার দুটি মসজিদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই নামাজ ক্যাম্পেইন ইতোমধ্যেই স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, পবিত্র শবে-ই-বরাত রাতের এশার নামাজ থেকে শুরু করে শবে-ই-কদর পর্যন্ত টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায়ের লক্ষ্যে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। নিয়মিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থাও।
এই উদ্যোগে শিশু, কিশোর, যুবক ও বয়স্কসহ প্রায় শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সমাজে নামাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ফরদাবাদ দক্ষিণ পাড়া বাইতুন নাজাত জামে মসজিদ এবং কলেজ পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদে ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ২টায় বাইতুন নাজাত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ইমাম হাফেজ মাওলানা আবু রায়হান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আতাউর রহমান ফরদাবাদী-
প্রিন্সিপাল, মাদ্রাসাতুল মদিনাহ থোল্লাকান্দী; সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখা এবং ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা, বন্ধু ফাউন্ডেশন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও ড. রওশন আলম কলেজের প্রফেসর ফেরদৌস মিয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজ পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা বাছির উদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য
এক টেলিফোন বার্তায় বন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইকবাল মাহমুদ সুজন জানান, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তিনি আরও জানান, রমজান উপলক্ষে ইফতার আয়োজন, এতিম ও অসহায় শিশুদের ঈদের পোশাক বিতরণ এবং ৫১টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিশেষ খাদ্যসামগ্রী (পোলাও চাল, মুরগি, সেমাই, দুধ, চিনি ও তেল) পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,
আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ যেন নামাজের প্রতি আগ্রহী হয় এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়-এই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেই বন্ধু ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী
বন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল মাহমুদ সুজনের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ও সাধারণ সম্পাদক অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সার্বিক অনুষ্ঠান তদারকি করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বোরহান উদ্দিন।
বন্ধু ফাউন্ডেশনের এই মহতী উদ্যোগ মুসল্লিদের মধ্যে ধর্মীয় উৎসাহ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং নিয়মিত নামাজ আদায়ের আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানের শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়, যেন তিনি সকলকে আজীবন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের তাওফিক দান করেন।

Related Articles

Back to top button