শীতের সন্ধ্যায় পিঠা খাওয়ার যেন ধুম পড়েছে। ১১০ প্রকারের ভর্তা সামনে রেখে এক উৎসবে মেতে উঠেছেন পিঠা প্রেমিরা। কেউবা সরিষা আবার কেউবা শুটকির ভর্তা নিয়ে করছেন কাড়াকাড়ি। অন্যদিকে পিঠা তৈরি আর বিলানো নিয়ে ব্যস্ত মাজেদা বেগম। চুলা থেকে সরাসরি অভিনব এক কৌশলে ক্রেতাদের কাছে পিঠা পৌঁছাচ্ছেন তিনি। সব মিলিয়ে এক দোকান ঘিরেই যেন বসেছে পিঠার মেলা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের বাহেরচরে মাজেদা বেগমের পিঠার দোকানে প্রতিদিনই দেখা যায় এমন চিত্র। বাহারি পদের ভর্তাই যেন এখানকার মূল আকর্ষণ। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে হাজার খানেকের বেশি পিঠা। মানুষের মুখে মুখে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এই ছোট্ট টং দোকানের খ্যাতি। আশপাশের অন্তত পাঁচটি উপজেলা থেকে এখানে পিঠা খেতে ছুটে আসছেন মানুষজন।
এবার আসি পিঠা দোকানি মাজেদা বেগমের সংগ্রামের গল্পে। স্বামীর তেমন ছিল না আয়। পাঁচ কন্যা নিয়ে অনেকটা বিপাকে ছিলেন। তবে এবার ভাগ্য খুলে দিয়েছে এই পিঠার দোকান।
পিঠা বিক্রির টাকায় দুই কন্যাকে দিয়েছেন বিয়ে, আরো তিন কন্যাকে শিঘ্রই বিয়ে দিবেন তিনি।
মাজেদা বেগম বলেন, খুবই কষ্টে দিন কাটাইছি, এখন দিন ফিরছে। ভর্তার কারণেই মানুষ বেশি আসে। মেয়েদের বিয়ে দিতে পারতাছি। একদিন ভাবলাম কিছু ভর্তা বানাই নিজের মতো করে, এরপর দিন থেকেই দেখি মানুষ বেশি আসতে শুরু করছে। ভর্তার কারণেই এতো বেশি বিক্রি হয়।
কয়েক বছর আগে মাত্র ৫০০ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করলেও এখন প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকারও বেশি। অভাব-অনটনের সংসারে দেখা দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য। স্বামীও অন্য কাজ ফেলে যোগ দিয়েছেন মাজেদা বেগমের সঙ্গে।
এই অঞ্চলের মানুষের কাছে মাজেদার পিঠার দোকান যেন সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখের এক ছোঁয়া। পরিবার-পরিজন আর বন্ধুদের নিয়ে শীতের সন্ধ্যাকে রঙিন করে তুলতে যেন বিকল্প নেই এই জায়গার।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর