নবীনগরে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় গ্রামবাসীর ওপর গুলি, এমপির কথা শুনছে না প্রশাসন?
নবীনগর উপজেলা-এর মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ার কারণে চরলাপাং গ্রামবাসীর ওপর গুলি ছোড়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন, এর মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নবীনগরবাসীর উদ্দেশ্যে এক বার্তা দেন নবনির্বাচিত এমপি এমএ মান্নান। এ ঘটনায় পুলিশকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে বালু খেকোদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথাও জানান দেন।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এমপির কথা শুনছেন না প্রশাসন। তাদের দাবি, এমপি নির্দেশনা দিলেও ঘটনাস্থলে অনেক দেরি করে হাজির হয় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের ভাষ্য অনুযায়ী, চরলাপাং সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ড্রেজার দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, নাছিরাবাদ বালু মহলের সীমানা অতিক্রম করে নদীর তীরঘেঁষে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল।
স্থানীয়রা একাধিকবার নিষেধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। রোববার সকালে শতাধিক গ্রামবাসী ড্রেজার এলাকায় গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা ঘটনাস্থলে এসে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে নুরুল মিয়া, জুলহাস মিয়া, সাকাল মিয়া, সামত মিয়া, ইব্রাহিম, জসু মিয়া, শরিফ, রুপ মিয়া, সিয়ামসহ আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের কারও পায়ে, কারও পিঠে ছররা গুলির আঘাত লাগে।
আহতদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা একটি প্রভাবশালী চক্রের লোক। তাদের নির্দেশেই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের দুই পক্ষের কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিব রহমান জানান, দুপুরের দিকে ছররা গুলিবিদ্ধ ১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, নবীনগরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ বালু মহল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, জেলা পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি তোলা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথেই পুলিশের একটি দল নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর