গত ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা কেঁপে ওঠে। আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন।
এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট কম্পন অনুভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মূল ভূমিকম্পের পর এ ধরনের ছোট কম্পনকে বলা হয় “আফটারশক”। বড় ভূমিকম্পের ধাক্কায় ভূগর্ভের শিলাস্তরে যে চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তা ধীরে ধীরে সমন্বয় হতে গিয়ে আবার ছোট আকারে কেঁপে ওঠে—এটাই আফটারশক।
সাধারণত এসব আফটারশক মূল ভূমিকম্পের কেন্দ্র বা ফাটল রেখার আশপাশেই ঘটে থাকে। মাত্রা তুলনামূলক কম হলেও দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের জন্য এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে বারবার কাঁপুনিতে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও আতঙ্কও বাড়ে।
ইতিহাস বলছে, আফটারশকও কখনো কখনো বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে। ১৯৭৬ সালে চীনের তাংশান অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরপরই বড় মাত্রার আফটারশক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়। আবার ২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে অগভীর গভীরতায় সংঘটিত ৬.৩ মাত্রার আফটারশক শহর এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আফটারশকের তীব্রতা ও সংখ্যা কমে আসে। তবে সতর্কতা অবলম্বন, দুর্বল ভবনে প্রবেশে সাবধানতা এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর কাঁপুনি থেমে গেলেও শঙ্কা থামে না—কারণ আফটারশক কখনও কখনও নতুন করে বাড়াতে পারে পুরনো ক্ষত।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর