সূফীপন্থী এতো লোক থাকতেও জ্বলেনি ‘মোমবাতির’ আলো, ওয়াজ-মাহফিলই প্রচারণার শেষ ভরসা
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. আবু নাসের মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে। মোটা দাগে বলতে গেলে তিনি সূফীপন্থী ইসলামের প্রার্থী। অর্থাৎ তরিকত ও সূফীবাদ বিশ্বাসীদের আস্থার প্রতীক এই মোমবাতি। তবে নির্বাচনী মাঠে খুব প্রভাব ফেলতে পারেননি আবু নাসের। অন্যান্য প্রার্থীদের মতো সরগরম কোনো প্রচারণাও চোখে পড়েনি। কিছু কিছু ওয়াজ-মাহফিলই ছিল নির্বাচনী প্রচারণার শেষ ভরসা। মাহফিলে গিয়ে কিছুটা প্রচারণা চালাতে গেছে তাকে।
মাজার রক্ষা ও নানাবিধ সূফীমতবাদ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামলেও সরাসরি তেমন কোনো সাড়া পাননি এই প্রার্থী। তবে তার নির্বাচনী এলাকায় সূফীপন্থী ইসলামের লোকসংখ্যা অনেক। আশা করা হচ্ছিল এবার তারা জোরে সোরেই মাঠে নামবেন। কিন্তু দেখা গেল বিপরীত চিত্র।
এর কারণ খুঁজতে চেষ্টা করে সময়ের বাঞ্ছারামপুর। জানা যায়, এলাকায় সূফীবাদ বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা অনেক থাকলেও তারা কেউ সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চান না। ক্ষমতা কিংবা প্রভাব বিস্তারে তাদের বরাবরের মতোই অনীহা। তাই খুব একটা সক্রিয় ভাবে মাঠে নামেননি তারা।
অন্যদিকে সূফিবাদ মানুষদের মধ্যে সরাসরি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য তারা। এরমধ্যে একটা অংশ বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ। সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় সূফিবাদের পক্ষে তারা সরাসরি মাঠে নামেন না।
এছাড়াও আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে মোমবাতির সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো সূফীবাদীপন্থীদের তেমন কোনো ডোনার নেই যারা কিনা নির্বাচনী খরচ বহন করবে। আর্থিক সংকটের কারণে অনেকটাই বেকায়দায় তারা। পথসভা কিংবা বড় পরিসরে জনসভা করার সক্ষমতাও নেই। এসব কারণে মোমবাতি পিছিয়ে রয়েছে।
তবে মোমবাতির প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা ভোটের মাঠে তাদের পক্ষে নীরব এক বিপ্লব ঘটতে পারে। সেই আশাই এখন শেষ ভরসা।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর