ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন ঘিরে আবারো দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। ভোটের মাঠে এখন কাজ করছে নতুন সমীকরণ। বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জোনায়েদ সাকি অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও তাতে বিপত্তির কারণ হয়ে উঠেছে সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া প্রার্থী ড. সায়েদুজ্জামান কামাল। সাকির কাছে জামায়াতের চাইতে বেশি বিপাকের কারণ এখন ড. কামাল। বিএনপির ভোটে ভাগাভাগির এক বড় সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এই আসনে। ভোটের এই সমীকরণে তাই এগিয়ে থাকছে জামায়াত।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উপজেলা সদরে ড. কামালের নির্বাচনী প্রচারণায় অধিক লোকের সমাগম ভোটের মাঠের এক ভিন্ন চিত্রই যেন দেখালো। সেখানে বিএনপি দলের অনেককেই নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। ছাত্রদলের অনেক নেতাও স্বতন্ত্র এই প্রার্থীকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছেন। উপজেলা জুড়ে ফুলেল শুভেচ্ছায় অনেক বড় এক শোডাউন দেখা গেছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন জোনায়েদ সাকি ও জামায়াতের মো. মহসিনের শোডাউন থেকেও বড় পরিসরে ড. কামালের শোডাউন ছিল। স্লোগান আর মিছিলে যেন নতুন সমীকরণের আভাসই দিয়েছে তারা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর এমন প্রচারণার চিত্র কিছুটা শঙ্কিত করছে জোনায়েদ সাকির সমর্থদের। তবে অনেকে বলছেন ড. কামালের প্রচারণা শুধু সদরেই সীমাবদ্ধ, আর ভোট ব্যাংকও সদরের বাহিরে তেমন একটা নেই। এই দিক থেকে স্বস্তি খুঁজছেন তারা।
অন্যদিকে জামায়াত আছে বেশ ফুরফুরা মেজাজে। দুই প্রার্থীর ভোট ব্যাংক ভাগ হলে তাদের জয় অনেকটা সহজ এবং সুনিশ্চিত। যে কারণে তারাও চাইছে জোনায়েদ সাকিকে পরাস্ত করতে মাঠে থাকুক স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. কামাল।
দুই শক্তির লড়াইয়ে তারুণ্যের ভোটে অনেকটা এগিয়ে থাকবে বলে মত জামায়াত সমর্থকদের।
তবে আছে উল্টো চিত্রও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ড. কামালকে আড়ালে সমর্থন দিতে পারেন বিএনপির একটি বড় অংশ। দলীয় প্রতীক না পাওয়ার ক্ষোভে অন্তত শেষ ভরসাটা কৌশলে ড. কামালের ওপর করবেন তারা। এক্ষেত্রে সাকিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিলেও তার আড়ালে ড. কামালকে জেতাতে এক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বিএনপির প্রথম সারি নেতারা। এক্ষেত্রে জোনায়েদ সাকিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন ড. কামাল।
সব মিলিয়ে আসনটি এখন অনেক সমীকরণের মুখে।
শুরু থেকেই এই আসনটি নানা কারণে আলোচনায় ছিল। জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকিকে ঘিরে জল গড়ায় বহুদূর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হয় বিএনপির খালেক পিএসসি ও মেহেদী হাসান পলাশ। পরে অবশ্য কেন্দ্রীয় আলোচনায় আপোসে আসে তারা, দলে ফিরেন আবার। শেষ পর্যন্ত জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দেন উভয় নেতা।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর