বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ বলেছেন, মন চাইলেও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবুও আমি গভীর গর্বের সঙ্গে বলতে চাই—আমি একটি আদর্শিক, সংগ্রামী ও গণতান্ত্রিক দলের একজন কর্মী। কারণ দল আমার কাছে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে, দলই আমার রাজনৈতিক পরিচয়।
মনোনয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সেটিই আমার রাজনীতির একমাত্র পথনির্দেশক। তাঁর নেতৃত্বে আমি আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মনোনয়ন না পাওয়া মানেই পিছিয়ে যাওয়া নয়; বরং অনেক সময় এটি আত্মত্যাগের আরও বড় পরীক্ষা। দলের জন্য ত্যাগই যে প্রকৃত শক্তি, তা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।”
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর সদর উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে সামনের দিনের করণীয় নির্ধারণে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমি পদ-পদবির রাজনীতি করি না, আমি মানুষের রাজনীতি করি। ক্ষমতার মোহ নয়, জনগণের ভালোবাসাই আমার রাজনীতির মূল প্রেরণা। অতীতেও যেভাবে আপনাদের পাশে ছিলাম, সুখে-দুঃখে, হাসি-কান্নায়, বিপদে-আপদে—আগামীতেও ঠিক সেভাবেই আপনাদের পাশে থাকব। আমার অবস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু আপনাদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা কখনো বদলাবে না।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা যে ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন আমাকে দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলব না। ইনশাআল্লাহ, দল ও দেশের যে কোনো প্রয়োজনে আমি অতীতের মতোই নিষ্ঠা, সততা ও সাহস নিয়ে পাশে থাকব। ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, বরং সমষ্টিগত লক্ষ্যই আমাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে বিএনপির পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ থেকেই আমরা একদিন গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনব—এই বিশ্বাস নিয়েই আমি আমার পথচলা অব্যাহত রাখব।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মুছার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে তৃণমূল পর্যায়সহ উপজেলা বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ধানের শীষ প্রতীক না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি বিএনপির পক্ষ থেকে জোনায়েদ সাকিকে ছাড় দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর