কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় বিয়ের মাত্র নয় মাস পর সামান্থা (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থল থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে সন্ধ্যায় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী শিপন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত সামান্থা ওই গ্রামের মো. আব্বাস মিয়ার মেয়ে এবং নয় মাস আগে একই গ্রামের শিপন মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। শিপন মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছিলেন সামান্থা, যা নিয়ে প্রায়ই দুজনের মধ্যে ঝগড়া হতো।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্যাতনের পর সামান্থাকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ওসি (তদন্ত) দিনেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে নিহতের ঘরের দরজা বাইরে থেকে শেকল দেওয়া ছিল, যা ভেতর ও বাইরে উভয় দিক থেকেই খোলা যেত।”
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এখনও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চান্দেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সময়ের বাঞ্ছারামপুর