সর্বশেষ:
Home / বাঞ্ছারামপুর / ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে জোনায়েদ সাকির ঝাড়ু মিছিলে নেয়া হয় মহিলাদের!

ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে জোনায়েদ সাকির ঝাড়ু মিছিলে নেয়া হয় মহিলাদের!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে করা হয়েছে ঝাড়ু মিছিল। শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে বাঞ্ছারামপুর সচেতন মহিলা সমাজের ব্যানারে এই কর্মসূচি করা হয়। জোনায়েদ সাকিকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে অপদস্ত করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় হাজারো নারীকে।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে জোনায়েদ সাকির ব্যানার সংবলিত ছবিতে ঝাড়ু দিয়ে পেটাতেও দেখা যায়, আর তাদের মুখে ছিল নাস্তিকের ঠাঁই বাঞ্ছারামপুরে হবে না। এর আগে ঝাড়ু হাতে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহিলা সমাজ।

এরপরই সমালোচনার ঝড় উঠে। একজন জাতীয় নেতাকে এমন ভাবে অপদস্তের ঘটনা মেনে নেয়নি সাধারণ জনতাসহ খোদ বিএনপি নেতাকর্মীরা। ঝাড়ু মিছিলের ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকে হাজারো মন্তব্য করে এই প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি জোনায়েদ সাকির মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই বিএনপির একটি পক্ষ এমন কুরুচিপূর্ণ কর্মসূচি করে। রাজনীতিতে সবার অধিকার রয়েছে, কিন্তু এ ধরণের কর্মসূচি গণতন্ত্রের পথে অন্তরায়, যা এই উপজেলার রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে। টাকার বিনিময়ে মহিলাদের জড়ো করে এমন ন্যাক্কার কর্মসূচি করা হয়েছে বলেও বলছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর সচেতন মহিলা সমাজ নামে কোনো সংগঠন নেই উপজেলায়। তাহলে এতো মহিলার আগমন কী করে হলো? অনুসন্ধান করতে গেলে বেরিয়ে আসে কারণ।

গ্রামের অসহায় মানুষদের জিম্মি করে ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে জড়ো করা হয় মহিলাদের। অনেককে হুমকি দেয়া হয় মিছিলে না গেলে আগামীতে কোনো ভাতা দেয়া হবে না। এই ভয়েই উপজেলা চত্বরে জড়ো হন নারীরা। এ সংক্রান্ত প্রমাণও রয়েছে সময়ের বাঞ্ছারামপুরের কাছে।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়, জোনায়েদ সাকির বিষয়টি পুরোপুরি ধর্মীয়। মানুষের সেন্টিমেন্টে আঘাত লেগেছে বিধায়ই ঘর থেকে বেরিয়েছে। জোনায়েদ সাকিকে আমি সম্মান করি।

মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জেরে এমন মিছিল হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে পলাশ বলেন, ওনার দল ওনি করবে তাতে আমার সমস্যা কোথায়? আমরা তো ওনাকে কোনো মিছিল মিটিং করতে বাধা দেইনি, সম্মানজনক অবস্থান বজায় রেখেছি। ট্রান্সজেন্ডার বিষয় নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে, এটাতো দলীয় কোনো বিষয় নয়।

 

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জোনায়েদ সাকির সমর্থকরা। পাশাপাশি নিন্দার ঝড় ওঠে ফেসবুকে। প্রায় শতভাগ মন্তব্যই বিপক্ষে যায় ঝাড়ু মিছিলের। সমর্থন নেই বললেই চলে। বিএনপি নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এতে।

Gazi Tamim নামে একজন মন্তব্য করেন, বাঞ্ছারামপুর থেকে নোংরা রাজনীতি বন্ধ না করলে,তরুণ প্রজন্মে আপনাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।
এখনো সময় আছে এইসব নোংরা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন?

Helal Ahmed নামে একজন বলেন, আমি এক জন বি এন পি ক্রমি হিসাবে বলছি এটা ঠিক না।

Sohag নামে একজন কমেন্ট করেছেন, হায়রে বাঞ্ছারামপুরের বিএনপি এজন্যই কি এত ভালবাসতাম এই দলটাকে।

Nayon Miah নামে একজন কমেন্ট করেন, জোনায়েদ সাকি এমন কি অন্যায় করছে তাকে এমন অপমান করতে হবে, হায়রে বানছারামপুর বাসী একপেকেট হুইলে পাউডার আর একটা পাঁচশত নোটের জন্য তোমরা মানুষ চিন্তে ভুল করো ।

Arif Tutul নামের একজন লিখেন, নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে নির্বাচন প্রতিহিংসা নয় প্রতিযোগিতা মূলক করেন মনে শান্তি পাবেন আর বিনা অপরাধে এই কাজটা করা ঠিক হয় নাই।

Omar Farouq নামে একজন বলছেন, এই কাজটা যে করেছে বেশি ভালো করে নাই এটার খেসারত বিএনপিকে দিতে হবে এই হিংসা প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এমন হাজারো মন্তব্য ঘুরছে এখন ফেসবুকে।

Check Also

পুত্র সন্তানের আশায় স্বামীর একাধিক বিয়ে, সালিশের পর কীটনাশক খেয়ে জীবন দিলেন মরজিনা

বাঞ্ছারামপুরের হায়দনগরে মরজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার …